সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
অগ্নিদগ্ধ ছেলেকে দেখতে সীতাকুণ্ডে যেতে পারছেন না বাহুবলের সেফু মিয়া মাধবপুরে বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্ভোধন মাধবপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হবিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ লাইন টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতর অভিযোগ মাধবপুরে বৈকুন্ঠপুর চা শ্রমিক পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ মাধবপুরে দুই সাংবাদিক কে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা নেপাল ইন্টারন্যাশনাল আইকনিক এ্যাওয়ার্ড পেলেন ১১ বাংলাদেশী মাধবপুরে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচিতি ও আলোচনা সভা পুলিশের সোর্স কে কুপিয়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা পিএইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করায় মুহাম্মদ আশরাফুল আলম হেলালকে সংবর্ধনা
নোটিশ ::
দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী পত্রিকার সকল প্রতিনিধি ও গ্রাহকদের কে আমাদের ফেইজবুক ফেইজ  এ লাইক দিয়া আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকার জন‌্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হল। আমাদের ফেইজবুক ফেইজ: https://www.facebook.com/habiganjerbani  অনুরুধ ক্রমে:  সম্পাদক(Online),দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী।

করোনার প্রভাবে ভাল নেই শায়েস্তাগঞ্জের দুগ্ধ খামারিরা

রিপোর্টার / ৩৬২ বার
আপডেটের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

সৈয়দ হাবিবুর রহমান ডিউক, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে: সারাদেশে লকডাউনের কারণে বিপাকে আছেন শায়েস্তাগঞ্জের দুগ্ধ খামারিরা। করোনা ভাইরাসের কারনে মিষ্টির দোকান,হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় এখন অনেকটাই দিশেহারা দুগ্ধ খামারিরা। দুধের চাহিদা না থাকা সেই সাথে গু-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন লোকসান গুনছেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার খামারীরা।

শায়েস্তাগঞ্জ এগ্রোফার্ম ও এগ্রিটেক্ট ফারম লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার দাউদনগর মহল্লার সৌরভ পাল চৌধুরী। তার এই ডেয়ারি ফার্মে দৈনিক প্রায় ২শ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। এসব দুধ মিষ্টান্ন তৈরীর দোকানসহ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দোকানপাট বন্ধ থাকায় উৎপাদিত দুধ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন তিনি।

তার এই ফার্ম থেকে দৈনিক প্রায় ২শ’ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। দুধ মিষ্টির দোকান, হোটেল ও বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে তিনি বেশ সাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন তিনি। আগের মতো দুধগুলো বিক্রয় হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন অনেক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে । এই সমস্যাটা শুধু সৌরভ পালের একার নয়।

শায়েস্তাগঞ্জে দুগ্ধ খামারি দের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে মিষ্টির দোকান, চায়ের দোকান বিভিন্ন বেকারিসহ অনান্য খাবারের দোকান। এই দোকানগুলোতে কাঁচামাল হিসেবে গরুর দুধের চাহিদা অনেক। বিশেষ করে মিষ্ঠান্ন উৎপাদনে দুধের চাহিদা বেশি কিন্তু করোনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুধের চাহিদা নেই বললেই চলে।

তবে সবকিছু বন্ধ থাকলেও দুধ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। গরুর খাবার ও অন্যান্য খরচ দিয়ে এখন হিমসীম খাচ্ছেন তারা। শায়েস্তাগঞ্জ এগ্রো ফার্মের মালিক সৌরভ পাল চৌধুরী বলেন, আমার ফার্ম থেকে দৈনিক প্রায় ২০০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। যা দিয়ে ৫ জন শ্রমিকসহ নিজের পরিবারের খরচ বহন করি। চাহিদা না থাকায় তার উৎপাদিত দুধের বেশির ভাগই গাভীর বাচ্চাকে খাওয়াতে হচ্ছে।

কিছু দুধ আমরা ছানা তৈরী করে রাখছি। এতে মারাত্মক লোকসান গুনতে হচ্ছে । খামার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। বাজারে পশু খাদ্যর দামও বেশি। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসতে হবে। মায়া ডেইরি ফার্মের মালিক মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ২ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। প্রায় প্রত্যেকটি খামারের মালিকরা অনেকটাই পথে বসতে শুরু করেছেন।

দুধের দাম কমিয়েও বিক্রয় করতে পারছি না আমরা। এই অবস্থায় আমরা কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। তাছাড়া এখন গরুর খাদ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অনেক লোকসান হচ্ছে।

ফলে আমাদের খামারের উৎপন্ন দুধ বিক্রি করতে পারছি না। এরই সাথে যোগ হয়েছে গু-খাদ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। খামারের গাভীদের খাবার দেয়াই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে খামার ব্যবসা ধংস হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কথা হয়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রমা পদ দের সাথে তিনি বলেন, শায়েস্তাগঞ্জে বড়-ছোট মিলে ৩২টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। করোনা পরিস্থিতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় উৎপাদিত দুধ বাজারজাত করতে পারছেন না খামারিরা। সরকারিভাবে দুগ্ধ খামারিদের তালিকা করা হচ্ছে। দুগ্ধ খামারির বিষয়টি সরকারের নজরে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com