হবিগঞ্জের মাধবপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে চারগুণ হয়েছে। হঠাৎ করেই মাধবপুর পৌরবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। এমনকি কোনো কোনো বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের দাম এমন অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে অভিমত ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মরিচ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও উত্তরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বাড়লেও দামে বড় ধরণের পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো খুচরা ব্যবসায়ী পাইকারীর দ্বিগুণ দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন।
কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। অর্থাৎ পাইকারিতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে চারগুণ হয়েছে।
হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে মাধবপুর বাজারের আড়তদার হাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উত্তরাঞ্চলে দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মরিচ খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণেই কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গেছে।
মাধবপুর বাজার ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগেও এক পোয়া কাঁচামরিচ ১৫ টাকায় বিক্রি করেছি। সেই মরিচ এখন ৪০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। এরপরও আড়তে মরিচ সেইভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টিতে মরিচের খুব ক্ষতি হয়ে গেছে। আর কয়েকদিন এভাবে চললে মরিচের দাম আরও বেড়ে যাবে।’
পূর্ব মাধবপুর গ্রামের মোহন মিয়া বলেন, সবসময় দেখি বৃষ্টি হলেই কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যায়। মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যেও এর ব্যতিক্রম হলো না। ১৫ টাকা পোয়া বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এক লাফে ৫০ টাকা হয়ে গেছে। কতদিন এই অবস্থা থাকবে তার ঠিক নেই। আমাদেরও কিছু করার নেই। দাম যতই হোক মেনে নিতে হবে।’