শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
মালদ্বীপ ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড-২১ পেলেন আরিফুল ইসলাম জিয়া মাধবপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী(সা:)উপলক্ষে জশনে জুলুস পালিত মাধবপুরে শেখ রাসেল দিবস পালিত পৌর শহরের রাস্তায় তালের চারা রোপন ধর্মঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিলের জন্য উকিল নোটিশ মাধবপুর প্রেসক্লাবে সংখ্যালঘু ব্যক্তির সংবাদ সম্মেলন বিশ্ব চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম হবিগঞ্জের গর্ব নুবায়শা “ডিবিসি নিউজ” এর হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোঃ ফজলুর রহমান ফার্ষ্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ অফিসার এর বিদায় সংবর্ধনা মাধবপুর প্রেসক্লােবের সদস্য রিফাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সহসভাপতি নির্বাচিত মাধবপুরের ধর্মঘর ইউনিয়নে মাইমুনা স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
নোটিশ ::
দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী পত্রিকার সকল প্রতিনিধি ও গ্রাহকদের কে আমাদের ফেইজবুক ফেইজ  এ লাইক দিয়া আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকার জন‌্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হল। আমাদের ফেইজবুক ফেইজ: https://www.facebook.com/habiganjerbani  অনুরুধ ক্রমে: নির্বাহী সম্পাদক,দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ (শেষ পর্ব): প্রতিকার ও চিকিৎসা

রিপোর্টার / ৫৬৩ বার
আপডেটের সময় : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী’র স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত লিখছেন শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর চিকিৎসক হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ডাঃ অনুজ কান্তি দাশ। আজকের বিষয়- কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ (শেষ পর্ব): প্রতিকার ও চিকিৎসা।

২য় পর্বের রেশ ধরে বলতে হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যকে গুরুত্ব দিয়ে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। উনি প্রথম দিকে যন্ত্র দিয়ে (proctoscope) দিয়ে পরীক্ষা করে এবং যেসব কারণে (আগেই উল্লেখ করা হয়েছে) সেগুলোকে নির্ণয় করার জন্যে বা সম্ভাবনা বাতিল করার জন্যে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা দিবেন।

আমাদের একটি কমন অভিযোগ হচ্ছে যে, ডাক্তাররা অনেক টেস্ট দেন। কিন্তু রোগ নিয়ে পড়ালেখা করলে বোঝা যায় যে, এর বেশিরভাগ টেস্টই অমূলক নয় বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা যে টেস্ট না করালেই নয়, সেগুলোই দিয়ে থাকি। অন্যদেশের প্রেসক্রিপশন যখন দেখি, তখন দেখি যে, হেন কোন টেস্ট নাই, যা উনারা করান না। আগের পর্বে কারণসমূহের দিকে নজর দিলেই বুঝবেন টেস্ট কেন করানো আসলেই দরকার।

তবে যে দিকটাতে আমাদের বেশি করে নজর দিতে হবে সেটা হচ্ছে পরীক্ষা যেখানে করা হয় অর্থাৎ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরীক্ষার মান যাচাই করা। অথচ ডাক্তার টেস্ট বেশি দেয় -এ নিয়ে যে অভিযোগ দেখা যায়, তার ১ আনা অভিযোগও গলিতে গলিতে গড়ে উঠা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে শোনা যায় না।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি করতে হবে- আগেই বলেছি, ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে হবে। দয়া করে চটকদার বিজ্ঞাপন থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন। যেমন- “পাইলস, অর্শ, গেজের জখম, হবে এবার ১ মাসেই খতম” অথবা “বিনা অপারেশনে ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা” -এগুলো কিন্তু পুরাই ভাওতাবাজি। যদিও আমরা কোন এক অজানা কারণে এসব ভাওতাবাজিতেই আকৃষ্ট বেশি হই।

যাই হোক, মূল কথায় আসি। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রচুর আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন- লাল চাল, লাল আটা, ডাল, শাক সবজি, সালাদ, কলা, আপেল, নাশপাতি। এই আঁশ জাতীয় খাবার প্রথম খেলে খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে। সাথে সাথে আঁশ জাতীয় খাবার যেহেতু পানি শোষণ করে নেয়, তাই বেশি করে পানি খেতে হবে।

ইসব গুলের ভূষি – ভালই উপকারে আসে। তবে এটা গুলানোর পর পরই খেয়ে ফেললে ভাল। সকালে খাবার পরে এবং রাতে খাবার আগে খেতে হবে। তবে ইসব গুলও কিন্তু অনেকসময় খাওয়া নিষিদ্ধ তাই দয়া করে নিজে নিজে খাবেন না।

হাঁটাহাঁটি করা, একনাগাড়ে অনেক্ষণ শুয়ে থাকা যাবে না। পায়খানা চাপলে পায়খানা আটকে রাখবেন না। এতে অনেক সময় পায়খানা শক্ত হয়ে যায়। যদি প্যানে পায়খানা করেন, তাহলে পায়ের নিচে একটি টুল দিয়ে রেখে উঁচু করে পায়খানা করলে ভাল। লম্বা সময় প্যানে বসা যাবে না। মোবাইল, পত্রিকা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যাবে না। দিন দুনিয়ার সকল চিন্তা ভাবনা পায়খানা করার সময় করা যাবে না।

একটি বৈজ্ঞানিক কথা বলি- আমাদের শারীরিক বেশিরভাগ কাজই কিন্তু নার্ভাস সিস্টেম দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। মলত্যাগও তার অধীনে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম আমাদের নিয়মিত মলত্যাগের জন্য জরুরী। তাই যেমন কাজ ঐ নার্ভাস সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা করলে মলত্যাগও ভাল হবে। যেমন ভাল ঘুম।

বেশিরভাগই আমরা মল নরমকারী ঔষধের চক্করে পড়ে যাই। রোগটা খুবই বিরক্তিকর, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা থাকে অধৈর্য। তাই বাজারে প্রচলিত নানা নামের, নানা গ্রুপের লাক্স্যাটিভ আমরা প্রেসক্রাইব করে থাকি অথবা ফার্মেসিতে নিজেরা কিনে নিয়ে আসি বা ঔষধ বিক্রেতারাও উনাদের খেয়াল খুশিমত দিয়ে দেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে জনসচেতনতার জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল এই ৩ পর্বের লেখা। আশা করি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে মুড়ি-মুড়কির মতন পায়খানা নরম করার ঔষধ না খেয়ে নিজের জীবনাচরণে ক্ষুদ্র কিছু পরিবর্তন আনবেন এবং ভাল থাকবেন।

লেখকঃ ডাঃ অনুজ কান্তি দাশ এফসিপিএস (সার্জারি) শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চেম্বার- সূর্যমুখী হাসপাতাল, হবিগঞ্জ। রোগী দেখেনঃ প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। মোবাইলঃ ০১৬৮৩৯২৬০০১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com