শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
মাধবপুরে দ্রুতগামী এনা বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত, রাস্তা অবরোধ। নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল স্বপদে বহাল মেজর জেনারেল (অবঃ) সি.আর দত্ত বীর উত্তম এর মৃত্যুতে সনাক এর শোক আল্লাহ এবং শায়েখ দীগলবাগীকে অবমাননায় রজব আলী মেম্বারের জামিন না মঞ্জুর হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশ হবিগঞ্জে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে বীজ তুলে দিলেন এমপি আবু জাহির বাঘাসুরা মহিলা মাদ্রাসা উদ্বোধন মাধবপুরে স্বচ্ছতা’র উদ্যোগে অসহায় নারীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান মাধবপুরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের জন্মদিন উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ
নোটিশ ::
দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী পত্রিকার সকল প্রতিনিধি ও গ্রাহকদের কে আমাদের ফেইজবুক ফেইজ  এ লাইক দিয়া আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকার জন‌্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হল। আমাদের ফেইজবুক ফেইজ: https://www.facebook.com/habiganjerbani  অনুরুধ ক্রমে: নির্বাহী সম্পাদক,দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী।

গুঙ্গিয়াজুরী হাওর: পরিকল্পিত চাষাবাদে খাদ্য উৎপাদন বাড়বে দ্বিগুণ

জিয়া উদ্দিন দুলাল / ১৯৭ বার
আপডেটের সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

 জিয়া উদ্দিন দুলাল // হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম বড় হাওর গুঙ্গিয়াজুরী। হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমি নিয়ে এ হাওরটির বিস্তৃতি। এককালে একাধিক ফসলের চাষ হলেও বর্তমানে শুধুই বোরো আবাদ হচ্ছে এ হাওরে। অথচ, বোরোর পাশাপাশি আউশ ও আমন ধানের চাষ অথবা রবি শষ্যের চাষ হলে এ হাওরে খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে প্রায় দ্বিগুণ। আর এতে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকৃত হবে এ চার উপজেলার বিশাল কৃষক জনগোষ্ঠী।

এ হাওরটি তিন ফসলী জমির উপযোগী হলেও প্রয়োজনীয় স্লুইসগেট ও হাওররক্ষা বাঁধ তৈরী করে পরিকল্পিত চাষাবাদ না করায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্থানীয় কৃষককূলকে তিন ফসল চাষাবাদে আগ্রহী করে তুলতে না পারায় শুধুমাত্র বোরোতেই আটকে আছে হাওরপাড়ের কৃষকদের স্বপ্ন। কোন কারণে প্রাকৃতিক দূর্যোগে একমাত্র বোরো ফসল হারালে কৃষকদের সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে হয়। অথচ, বোরোর পাশাপাশি আউশ, আমন বা রবিশস্য চাষাবাদ করলে এক ফসল মার খেলেও কৃষকদেরকে আর অসহায় হয়ে পথে বসতে হতো না।

গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে খোয়াই নদী। এ নদীর পানি পরিকল্পিতভাবে হাওরে সেচের ব্যবস্থা এবং বর্ষার মৌসুমে পানি নিস্কাশন  করলে বোরোর পাশাপাশি আউশ ও আমন ধানও চাষাবাদ সম্ভব। এ ছাড়া রবি শস্যও চাষাবাদ করা যেতে পারে। ফলে পরিকল্পিতভাবে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে দুই বা তিন ফসলের চাষ হলে বর্তমানের চেয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়বে কমপক্ষে দ্বিগুণ।

গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে দুই বা তিন ফসল চাষের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা হয় হাওর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তাদের অভিমত, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং নিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে এ হাওরে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়বে। এতে স্থানীয়রা কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এখানের উদ্ধৃত খাদ্য বিদেশেও রপ্তানী করা যাবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কৃষক রায়হান মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, “এ বছর পানির অভাবে আমরা এ হাওরে বোরো চাষ করতে পারিনি। পরিমাণমতো পানি পেলে এ হাওরে বোরো ধানের বাম্পার উৎপাদন হবে। এ ছাড়া হাওর থেকে সময়মতো পানি সেচের ব্যবস্থা করলে বোরোর পাশাপাশি আমন বা আউশ ধানের চাষাবাদও করা যাবে। এতে আমাদের কৃষকদের অনেক উপকার হবে।”

বাহুবল উপজেলার খাগাউড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ তোফায়েল মিয়া জানান, গ্রামবাসীর বিস্তির্ণ চাষের জমি গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে অবস্থিত। তবে, তারা বোরো বাদে আর কোন ধান চাষ করেন না।

তিনি বলেন, সেচের মাধ্যমে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এ হাওরে আমন চাষাবাদও সম্ভব।

শুধু গুঙ্গিয়াজুরী হাওর নয়, হাওরাঞ্চল বলে খ্যাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার চার শতাধিক হাওরে পরিকল্পিতভাবে বোরোর পাশাপাশি আউশ, আমন ধান চাষ ও রবি শস্য উৎপাদন করা যেতে পারে। আর এতে করে খাদ্য শস্য বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এ ব্যাপারে তথ্য জানতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্যা) কৃষিবিদ মোঃ জালাল উদ্দিনের সরকারি মুঠোফোনে (যার নাম্বার ০১৭০০৭১৫৩৪৪) ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত মুঠোফোনে (যার নাম্বার ০১৭১৫৮৮৩৬৭২) বার বার ফোন দিলে তিনি একবার রিসিভ করে কেটে দেন। এরপর আর তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের তেঘরিয়া ইউনিয়ন অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান দৈনিক হবিগঞ্জের বাণীকে বলেন, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করলে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে দুই বা তিন ফসল চাষাবাদ সম্ভব। তবে, এজন্য কয়েকটি স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে।

তিনি জানান, এ হাওরে দুই বা তিন ফসল চাষাবাদ করতে আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরটি রক্ষা করতে হবে। এজন্য হাওরের বাহুবল উপজেলার উন্মুক্ত অংশ করাঙ্গী নদীরে উপচে পড়া পানিতে যাতে তলিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য উত্তর এবং পূর্ব দিকে বিশেষ করে হাওরের সীমেরগাঁও অংশ থেকে শিয়ালদাঁড়িয়া অংশ পর্যন্ত হাওররক্ষা বাঁধ তৈরী করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com